https://www.somagom.com/wp-content/uploads/2019/09/payment-gateway.jpg

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বা ই পেমেন্ট কি ? অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কিভাবে কাজ করে ?  জনপ্রিয় Payment Gateway কোনগুলো ? অনলাইনে পেমেন্ট কি নিরাপদ ? প্রিয় পাঠক আপানার মনে কি কখনো এমন সব প্রশ্ন হানা দিয়েছে ! যদি দিয়ে থাকে তাহলে আজকের লেখাটি আপনার জন্য। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন একে একে জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

পেমেন্ট গেটওয়ে সম্পর্কে জানতে চাইলে আর্টিকেলটি অবশ্যই ধীরে ও মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে কি ?

ইন্টারনেটে যে মাধ্যম ব্যবহার করে কোন পেমেন্ট সম্পন্ন করারকে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে বলে। কি বিষয়টি একটু কঠিন লাগছে চলুন ক্লিয়ার করে দেই।

ধরুন আপনি সমাগম কিংবা আমাজন ডট কম হতে আপনার জন্য আপনি একটি ক্যামেরা ক্রয় করলেন; এখানে আপনাকে এই ক্যামেরার মুল্য পরিশোধ করতে হবে। এখানে বিল পে করার জন্য আপনি অনেকগুলো উপায় পাবেন ক্যাশ অন ডেলিভারি বাদে – পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড, ভিসা, পেইজা, ব্যাংক পেমেন্ট ইত্যাদি; ধরুন আপনি আপনার কাছে থাকা ভিসা কার্ডটির সাহায্যে পেমেন্ট সম্পন্ন করলেন। এবং আপনার পন্য আপনার হাতে পেয়ে গেলেন।

এখন কথা হচ্ছে আপনি যে মাধ্যম ব্যবহার করে বিল বা পেমেন্ট সম্পন্ন করলেন সেটাই হচ্ছে পেমেন্ট গেটওয়ে।

আশা করছি পেমেন্ট গেটওয়ে কি আপনার কাছে পরিস্কার হয়েছে। যদি কোন প্রশ্ন থাকে কমেন্টে জানান।

পেমেন্ট গেটওয়ে কিভাবে কাজ করে ?

সব কিছুর তো একটা প্রক্রিয়া বলে কথা আছে নিশ্চই কোনটা উপরওয়ালা বানিয়ে দেয় আবার কোনটা বানিয়ে নিতে হয়; আর অনলাইন পেমেন্ট বা ই পেমেন্টও মানুষের তৈরি একটি পেমেন্ট পদ্ধতি। পেমেন্ট গেটওয়েও নিম্নোক্ত কয়েকটি ধাপে কাজ করেঃ

  • চেক আউট
  • সিলেক্ট পেমেন্ট মেথড
  • প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান
  • তথ্য যাচাই ও ইয়েস অর নো
  • সবশেষে কনফার্মেশন

আমার মনে হয় আপনার কাছে বিষয়টি এখনও পরিস্কার নয়। চলুন আগের কথায় ফিরে যাই। আপনি ক্যামেরা কেনার সময় পন্য সিলেক্ট করে চেকআউটে ক্লিক করেছেন আর এখানে প্রথম ধাপ শেষ।

এরপর বিল পরিশোধ করার জন্য আপনি সকল উপায়ের মধ্যে থেকে ভিসা সিলেক্ট করছেন। এখানে ২য় ধাপ শেষ।

আপনার ভিসা কার্ডের বিভিন্ন তথ্য যেমন- কার্ড হোল্ডার নেম, কার্ড নং, এক্সপেয়ার ডেট কিংবা অন্য তথ্য প্রদান করছেন। এখানে তৃতীয় ধাপ শেষ হয়েছে।

আপনার তথ্য ঠিক কিনা টা ব্যাংকের কাছে থাকা ইনফরমেশন এর সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে যদি হ্যাঁ রেস্পন্স আসে তাহলে ঠিক আছে আর যদি মিল  না থাকে অর্থাৎ আপনার দেওয়া তথ্যের সাথে কার্ডের তথ্যের অমিল থাকে তাহলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না এখানে চতুর্থ ধাপ শেষ।

সকল কিছু ঠিক থাকলে আপনার ফোনে বা মেইলে একটি রিপ্লে অর্থাৎ কনফার্মেশন এসএমএস পেয়েছেন; আর মার্চেন্ট ব্যাবসায়ির একাউন্টে বা যাকে পেমেন্ট করেছেন তার একাউন্টে টাকা চলে গেছে। এভাবে আপনার অনলাইন পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে।

আশা করছি বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে। না বুজলে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে পারেন।

https://www.somagom.com/wp-content/uploads/2019/09/online-payment.jpg

পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করা কি নিরাপদ না অনিরাপদ ?

যদি এক কথায় উত্তর খুজেন তাহলে উত্তর হচ্ছে নিরাপদ। অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলো মূলত একটা ইকো সিস্টেমের মধ্যে সম্পন্ন হয়; প্রথমত এরা আপানার তথ্যের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধ পরিকর থাকে।

পেমেন্ট গুলো সংযুক্ত করতে আপনাকে অবশ্যই https ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ সাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়। তথ্য গুলো একই টানেলে প্রবাহিত হয়।

পেমেন্ট মেথডগুলো নির্দিষ্ট আইপি ব্যবহার করে সম্পন্ন হয়; যে কোন ধরেন ম্যালওয়ার প্রতিহত করতে সক্ষম। ফলে তথ্য চুরি হওয়ার সুযোগ নেই।

এগুলোর পাশাপাশি থ্রিডি সিস্টেমে তিন স্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত আপডেট তো পাচ্ছেনই।

আপনার কার্ড ব্যবহার করে কেউ যদি পেমেন্ট করতে চায়  তাহলে সেটা সম্ভব নয় কারন প্রত্যেকবার লেনদেনের পূর্বে আপনাকে কনফার্ম করতে হবে । পাড় হতে হয় বিশেষ কয়েকটি ধাপ।

তবে অবশ্যই ভেরিফাইড পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ব্যবহারের পরামর্শ রইলো। পাসওয়ার্ড শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়ে কোন গুলো ?

সারা বিশ্ব জুড়ে কয়েক শত Payment Gateway রয়েছে। আমাদের দেশের পেমেন্ট গেটওয়েগুলো কিছু আইনের কারনে অন্য দেশে ব্যবহার করা যায় না। তবে আপনি চাইলে মাস্টার কার্ড দেশে বা দেশের বাইরে ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশ্ব জুড়ে জনপ্রিয় অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গেটওয়ে হচ্ছেঃ

  • টুচেকআউট
  • পেপাল
  • পেওয়নিয়ার
  • স্ক্রিল
  • পেজা
  • উইপে
  • ব্লুস্নাপ
  • পেপ্রো গ্লোবাল
  • আমাজন পেমেন্ট
  • অথোরাইজড ডট নেট

https://www.somagom.com/wp-content/uploads/2019/09/shopping.jpg

বাংলাদেশের পেমেন্ট গেটওয়ে কোনগুলো

বাংলাদেশেও নিজস্ব বেশ কয়েকটি পেমেন্ট গেটওয়ে রয়েছে। আইনের কারনে এই মাধ্যমগুলো দেশের বাহিরে আত্মপ্রকাশ করতে পারছে না। বাংলাদেশের জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়েগুলো হচ্ছেঃ বিকাশ, রকেট, কিউ ক্যাশ, সিউর ক্যাশ, ইউক্যাস, ডাচ-বাংলা ব্যাংক নেক্সাস। এর পাশাপাশি আরও অনেক পেমেন্ট মেথড রয়েছে তবে এখনও সবার কাছে অতোটা জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে নি।

আমরা আশা করছি একদিন ভিসা কিংবা পেপালের মতো আমাদের দেশি কোন পেমেন্ট গেটওয়ে সারা বিশ্বজুড়ে রাজত্ব করবে। তবে এর জন্য আমাদের সবাইকে সাপোর্ট দিতে হবে। আমাদের একটি দোষ আছে আমরা বিদেশি পন্যের জন্য ১০০০ টাকা দিব কিন্তু তার থেকে ভালো আমাদের দেশি পন্য ১০০ টাকা দিয়ে কিনতে চাই না। আর বেলা শেষে চিল্লাই দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে।

আপনি যদি ভালো করে খোঁজ নেন তাহলে জাবেন অনেক কোম্পানি তাদের অ্যাপ আমাদের দেশের ডেভলপার দিয়ে বানিয়ে নিচ্ছে।

পেওনিয়ার একাউন্ট খুলে ফ্রিতে ২৫ ডলার নিন এখনই

যেভাবে পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করবেন ?

আপনি যদি আপনার সাইটে Payment Gateway যুক্ত করতে চান তাহলে আপনার সাইটে পেমেন্ট গেটওয়ে সেবা প্রদান কারী প্রতিষ্ঠানগুলো আপনাকে সাহায্য করবে সেটা যে কোন পেমেন্ট গেটওয়ে হক না কেন। তবে এজন্য আপনার অবশ্যই ওয়েবসাইট ও ট্রেড লাইসেন্স থাকতে হবে। অবশ্য আপনার প্রতি পেমেন্টের জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ বা চার্জ প্রদান করতে হবে।

তবে আপনাকে কিছু চার্জ দিতে হলেও আপনার কোন দিক থেকেই ক্ষতি হবে না। আপনার বিক্রি বাড়াতে ই-কমার্স সাইটে পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করার ঝুড়ি নেই।

এছাড়া আপনি আপনার পেমেন্ট রিফান্ড করার সুযোগও পাবেন। প্রত্যকটি পেমেন্ট গেটওয়েতেই রিফান্ড করার উপায় থাকে। তবে এজন্য আলাদা কিছু পলিসি আছে।  পেমেন্ট গেটওয়ে যুক্ত করার সময় অনাদের সাথে কথা বলে নিবেন। সকল নিয়ম নীতি ভালো করে জেনে তারপর যুক্ত করবেন।

ই-কমার্স সাইটে Payment Gateway থাকেল ক্রেতা বিক্রেতা সকলের জন্যই উপকার হয়। বিল গ্রহন বিল প্রদানের সহজ সমাধান। পাশাপাশি নিরাপদও।

সব কথার শেষ কথা

আপনি যদি একটি ই-কমার্স সাইট পরিচালনা করে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই এর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পারবেন। আমরা যারা গ্রাহক তারাও এর সুফল কতো অনুভব করতে পারি। কারন আজকাল এ সকল পেমেন্ট গেটওয়ে থাকার কারনে সময় নষ্ট করে বাজারে জ্যাম ঠেলে পন্য কিনতে যেতে হয় না। ফ্লেক্সি থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ বিল আজকাল এই সকল পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে সম্পন্ন হচ্ছে।

এমন কি বিদ্যালয়ের বেতন, ভরতি ফি, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো সব কিছুই আজকাল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে।

এই সকল পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরিতে যারা অবদান রাখছে তাদের প্রতি রইলো বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

এই আর্টিকেলটি নিয়ে আপনার কোন মতামত, অভিযোগ কিংবা পরামর্শ থাকলে আমাদের কমেন্ট বক্সে কিংবা ফেসবুক পেজে এসএমএস করে জানাতে পারেন। আমরা আপনার মতামতের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করবো।

লেখাটি কপি করা থেকে বিরত থাকার বিশেষ অনুরোধ করা হইলো। ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন। ধন্যবাদ। 

মাস্টার কার্ড হতে বিকাশে টাকা নেওয়ার উপায় পড়ুন এখানে 

বাংলা ভাষায় প্রোডাক্ট রিভিউ, টেক আপডেট ও টেক টিপস পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন সমাগম ডট কম । —- ভালোবাসা অবিরাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *